মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

নীল বিদ্রোহের সুতিকাগার চৌগাছা

 

নীল বিদ্রোহের বারুদ রুদ্র কণ্ঠস্বর চৌগাছা

 

 

নীল বিদ্রোহের বারুদ রুদ্র কণ্ঠস্বর চৌগাছা। যার বিদ্রোহের ইতিহাস দ্বীপ্তমান সূচনা। সূর্যের মত বহ্নি ক্ষরণ। যার বিষ্ফোরিত বিভা জাপানের ফুঁজিয়ামা দ্বীপের অগ্নিপাতের মত অনর্গল। নীল নীলাভ সেই শিখা পুড়ায় উড়ায় শাষক, শোষকদের, অত্যাচারীদের যার পৃষ্টপোষকতায় নতুন ইতিহাস কথা হয়। পালায় বৃটিশ বেনিয়ারা লেজ গুটিয়ে। ‘‘দি লষ্ট অব নীল কুঠি’’ গ্রন্থ থেকে জানা যায় ১৭৭৫ সালে প্রথম নীল কুঠি খোলেন লুই বন্ড নামের ফরাসী নাগরিক। যশোরে ভৈরব নীদর তীরে রূপদিয়া বাজারের পাশে। যার ধ্বংস- ধ্বংসাল স্মৃতি চিহ্ন আজো বহন করে যাছে। কাল আর গ্রাম গঞ্জের মানুষের মুখে গল্প কথা হয়ে আছে।

বন্ডের পর ক্রমান্বয়ে মিঃ ডেভয়েল টেলার, বিসকে নুডশান রিভস রিজেন্ট, ম্যার্কেঞ্জ, মিঃ ডব্লিই শেরিফ ফার্গুসন, লারমোর ফররং জেংকথ, ম্যাকনেয়ার এ্যাসকল, বার্কার নআকিবলম, আর্থার পাউনার। আইভান, স্মিথ, প্রমুখ বনিকেরা যশোর নদীয়া ও ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন স্থানে নীল কুঠি খোলে।

লাভজনক চাষ হওয়ার কারণে অন্যান্য পেশার লোকজন নীল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে আর ক্রমান্বয়ে নীল চাষের বিষাক্ত ছোবলে কৃষকরা নীল হয়ে ওঠে। এ জন্য নীল চাষকে ঐতিহাসিকরা নীল নেশা বিষ বলে আখ্যায়িত করেছেন। চৌগাছার সবচেয়ে বড় নীল কুঠি স্থাপিত হয় পুড়াপাড়া কাঠগড়া নীল কুঠি। যার অধীনে ৫০ টা নীল কুঠি ছিল। যশোরের চৌগাছা ছিল সবচেয়ে নীল উৎপাদনমুখী উর্বর এলাকা। এ জন্য বনিকরা চৌগাছার নারায়নপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ইলিশমারী, ভগবানপুর এর পার্শ্বে কপোতাক্ষ কূল ঘেষা নীল কুঠি গড়েন। যেখানে শত শত লোক কাজ করত আর দেশী বিদেশী দালালদের খপ্পরে নিঃস্ব হতে থাকতো কৃষক দল।

ইংরেজরা কৌশলে পাতিদার জমিদার শ্রেণী সৃষ্টি করে সাধারণ কৃষকদের অত্যাচার করে এ নীল চাষ করাতো। যারা নীল চাষ করতে অনিচ্ছুক ছিল তাদের সুন্দরী কন্যাদের জোর পূর্বক ধরে এনে রাত্রির বিলাসনে ভোগ উপভোগ করে এক সপ্তাহ পরে ছেড়ে দেওয়া হত। আর সেই কৃষক কন্যারা বিভিন্ন স্থানে আত্মহত্যা করতো।

ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেন যারা নীল চাষে অনিচ্ছুক বা ঠিকমতো উৎপাদনে ব্যর্থ হত তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হত। তাদের কুঠিতে মাথায় কাঁদা লেপ্টে নীল বীজ রোপন করা হত। যত দিন চারা না গজাতো ততদিন খাবার না দিয়ে বন্দি রাখা হত।

চৌগাছার পাদপিঠে আর একটা নীল কুঠি স্থাপিত হয়। যেখানে অত্যাচার অনাচার ছিল আরো বহুগুনে। মদ, নারী আর অত্যাচারের এখনও নীল কুঠির বাতাস ভারী হয়ে আছে।

আর এ কারণেই নীল বিদ্রোহের বারুদ বিষ্ফোরিত হয় চৌগাছা থেকে যার নায়ক ছিল চৌগাছা ভেন্নবেড়ে গ্রামের চাড়াল পরিবারের পিতম্বর বিশ্বাস ও দ্বিগম্বর বিশ্বাস। তাদের বিদ্রোহের ইতিহাস তুলে ধরার আগে নীল গাছের আকার আকৃতি ও উৎপাদন খরচ সম্পর্কে একটু আলোচনা করি।

নীল গাছ দেখাতো অড়হত গাছের মতোই। এর পাতা চিক, হিরৎবর্ণ, অনেকটা সিদ্ধি পাতার মতো। খরিপ এবং রবি দু মৌসুমেই নীল চাষের উপযোগী সময়। এটা চাষের জন্য উষ্ণ ও আবহাওয়া প্রয়োজন। যার জন্য যশোর তথা চৌগাছা অঞ্চল ছিল উপযোগী। এক বিঘা জমি থেকে গড়ে ১০ রাতিল নীল গাছ পাওয়া যেত। এ থেকে দু সের নীল হত। যার বাজার মূল ছিল ১০ টাকা।

কিন্তু কৃষকদের দেয়া হত মাত্র আড়াই টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে নীল চাষ করতে সর্ব সাকুল্যে খরচ হত ৪ টাকা। অর্থ্যাৎ এক বিঘা জমিতে নীল চাষ করে একজন নীলকর নীট মুনাফা পেতেন ৬ টাকা। দু প্রথায় নীলকররা নীল চাষ করত। এর প্রথম প্রথা হচ্ছে নিজ জমিতে ক্ষেতমুজুর নিয়োগ করা। আর এর জন্য বীরভূম, বাঁকুড়া, সিংভূম, মানভূম ও মেদিনীপুর প্রভৃতি জেলা থেকে শাওতালদের নিয়ে আসা হত।

চৌগাছা উপজেলার পাশে সরদারপাড়া, তাহেরপুর, স্বরূপপুর সেই শাওতালরা কালের কল্লোলে হারিয়ে যায়নি। তবে আজো তারা নীল কর্মচারী নয়। দেশীয় পেশায় নিয়োজিত। তবে তাদের রক্তে লেপে আছে বৃটিশ বেনিয়াতের বহুমুখি অত্যাচারের শংকর চিহ্ন। অন্য প্রথাটি ছিল বায়তী আবাদ বা ‘‘দাদন আবাদ’’। বিঘা প্রতি ২ টাকা দাদন নিয়ে কৃকষকরা নীল চাষ করতো ও কুঠিতে নীল পেŠছাতে বাধ্য থাকত। এ প্রথায় জমিদার জোতদারদের করায়াত্ম করে কৃষকদের উৎকৃষ্ট জমি বলপূর্বক নীল চাষের আওতায় আনা হত। কৃষকরা নীল চাষে কি পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখিন হতো তা তৎকালীন বারাসাতের ম্যাজিষ্ট্রেট এ্যাসলি ইভেন নীল কমিশনের কাছে তার স্বাক্ষ্য তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, বিঘা প্রতি নীল চাষে ক্ষতি হতো ৯ টাকা ৬ আনা। আর নীলকররা বিঘা প্রতি সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ১২ টাকা পর্যমত্ম লাভ করতা। (এটা ১৮৬০ সালের হিসাব)।

 

জমিদারী প্রথা বা (শ্রেণীকরণ) নীল বিদ্রোহের প্রথম কারণঃ- নীল চাষকে বিঘ্নহীন করার জন্য ১৮১৯ সালের অষ্টম আইনে জমিদারদের কাছ থেকে নীলকরদের জমি পত্তনি পেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আর ১৮৩৩ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সনদে ইংরেজরা এদেশে জমিদারী ক্রয়ের সুযোগ পায়। ফলে নীলকরদের অধীনে চলে যায় বিপুল পরিমাণ জমি। এছাড়া ১৮৩০ ও ১৮৩৩ সালে জারি করা দুটি পৃথক আইনে নীল চাষ চুক্তি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা এবং দাবী আদায়ের জন্য আদালতের তরফে ডিক্রি জারির আদেশের সংস্থান রাখা হয়।

ফলে নীলকররা আরো রুষে ফুঁসে ওঠে কাল কানগিনীর মতো। কথা বললেই নীল ছোবল কৃষকদের মাথায় কেবল নীল চাষে অনিচ্ছুক কৃষকদের জেল জরিমানা সহ শারীরিক মানসিক ভাবে বিপর্যসত্ম করা হত। পাশাপাশি চাষে লোকসান দেয়ায় তাদের খাজনা বাকী হতে থাকে। চিরস্থায়ী বন্দোবসেত্মর ধাক্কা এবং নীলকরদের উৎপীড়ন এ’দুই মিলে কৃষকদের অর্থনৈতিক ভাবে পর্যদসত্ম করে মেরুদন্ডহীন প্রাণীর মতো করে তোলে। খেজুর বাগান যশোর চৌগাছার কৃষকদের একমাত্র শীতকালীন অর্থ সমস্যার সমাধান। কিন্তু চৌগাছার তাহেরপুর খেজুগুড়ের চিনিকল তৈরী ও অপরদিকে জোর পূর্বক নীল চাষ করে কৃষকদের বিপাকে ফেলে জমিদার জোতদার সৃষ্টি সৃষ্টি করে শাষন শোষন আর উৎপীড়নের যে ইতিহাস থৈরী করেছিল তৎকালীন বিদেশী শাসকরা তা তৈমুর লং, হালাকু খাঁ ও চেঙ্গিস খা’র চেয়ে আরো ভয়াল ও ভয়াবহ।

কৃষকদের কাছ থেকে নীলকররা যা কিছুই কিনতো দাম দিত অর্ধেক। বিভিন্ন দলির দসত্মাবেত থেকে দেখা যায়- উনিশ শতকের প্রথম থেকে ষাটের দশক পর্যমত্ম কৃষক হত্যা, বাসত্মভিটা উত্থান, মাথায় নীল বীজ বপন, ঘরবাড়ি নিশ্চিন্ন করা, অন্ধকুপে নিক্ষেপ করে, চুরি করে, হত্যাকান্ড ঘটানো, সুন্দরী রমনীদের ইচ্ছামত বাজারের দ্রব্যের মত কুঠিতে নিয়ে ভক্ষন, নাচ- গান আর প্রমদ উদ্যানে মাতাল বৃটিশ বেনিয়ারা যে নজিরবিহীন নষ্ট ইতিহাস সৃষ্টি করে তারই প্রতিবাদী ভিাগ হৃদপিন্ডের তুষের আগুন, ক্রমেই জ্বলে ওঠে কৃষাণদের দিলে। আর তার বিষ বিদ্রোহী বারুদ জ্বলে বিষ্ফরিত হয় চৌগাছা অঞ্চলের জনপদ থেকে। চৌগাছা বিদ্রোহের অগ্নিপুরুষ দিগাম্বর বিশ্বাস ও পিতাম্বর বিশ্বাস স্বপ্ন দেখেন স্বাধীন সত্তার, বিদেশী দোষরদের উত্থান করে সাধারণের মুক্তি দেবার। সঙগঠিত হতে থাকে চৌগাছাসহ যশোর নদীয়ার কৃষক কুল।

ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আসলে নীল বিদ্রোহ বলতে যশোরসহ চৌগাছা অঞ্চলের বিদ্রোহ ও নদীয়ার বিদ্রোহ বলা যায়।

যশোর এবং নদীয়ার কপোতাক্ষ ইছামতি বেতনা চিত্রা, নবগঙ্গা বেগদলা, নাওডাঙ্গা ভৈরব, ফটকী, চুনী, জঙ্গলী ভগীরথী, যমুনা, হরিহর, কুমার নতীর তীরে কয়েক মাইল পর পর নীর কুঠি স্থাপন করা হয়েছিল।

যার ধ্বস ধ্বসাল ইট টুন সুরকির সুরম্য লাল দতাদগে দাগ কেথাও ধ্বশাবশেষের ভংগুর বিল্ডিং আজো স্মরণ করিয়ে দেয় সেই বিষাক্ত নীল ছোবলের কথা।

যোগাযোগের ব্যবস্থা তখনকার দিনে জল পথই ছিল যথার্থ পথ। সেই কারেণই এইসব নদীর তীরে তীরে গড়ে ওঠে গড় গড় করে বিদেশী শাষকদের শোষনের লাল লাল ক্ষুধিত বিল্ডিং আর ওদের দেহ ছিল রক্ত চোষা লাল ডাইনীদের মতো।

নীল বিদ্রোহের সময় সমগ্র খুলনা ছিল যশোরের অধীনে। অন্যদিকে কপোতাক্ষ নদীর পশ্চিম পার এবং যশোর বনগাঁ সড়কের ঝিকরগাছা থেকে উত্তরাংশ বনগাঁ সহ ছিল নদীয়া জেলার অমত্মভূক্ত। কুষ্টিয়া মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা ছিল নদীয়ার মধ্যে। পরে বনগাঁ মহাকুমাকে যশোরের আওতাভুক্ত করা হয়।

ঐতিহাসিকদের মতে তিন পর্বের বিদ্রোহের মধ্যে সংগঠিত বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল ৬০ লক্ষ কৃষক। তাদের হাতে একে একে নীল কুঠি গুলি বিদ্ধসত্ম হয়। ভষ্মিত হয় ইংরেজদের তীব্র নোখর আর বাঘ্রথাবা।

নীল বিদ্রোহের মূলত নিম্নবর্ণের বিদ্রোহ বলে ঐতিহাসিকরা আখ্যা দেন। যশোর, নদীয়া ২৪ পরগনা জেলার কৃষক জনতা তিনটি বিদ্রোহে যোগ দেন। এ তিনটি বিদ্রোহে বিদ্রোহের বহ্নি ছড়ায় চৌগাছা এলাকার কৃষককুলদের সাথে দিগম্বর বিশ্বাস ও পিতাম্বর বিশ্বাস। ভয়হীন ভরহীন জয় উতালা বীরদ্বয় প্রত্যেক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দান ও অস্ত্রপ্রদান ও শক্তিসাহস প্রদান করেন বিষ্ময়কর ভাবে।

এরমধ্যে প্রথম বিদ্রোহকে ঐতিহাসিকরা কাল পর্বে বিভক্ত করতে পারেনি। এই বিদ্রোহ মূলত: শুরু হয় ১৮০০ সনের শুরু থেকে পঞ্চাশ দশকের শেষ অবধি। বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহের ঘটনা ঘটলেও এর সূকরন ছিল তীব্র থেকে তীব্রতর। বিদ্রোহের প্রথম দাবানল দাহ।

দ্বিতীয় বিদ্রোহ ছিল সবথেকে সুসংগঠিত। নিম্নবর্ণের সব চাষীরা এই বিদ্রোহে যোগদান করেছিল। শুধু পুরুষেরাই নয় নারীরাও ঝাটা বাড়ুন, ছড়ি- লাঠি, ইট- পাটকেল নিয়ে ইংরেজদের তেজ জ্বালা শীষ মহলে ধাক্কা দিয়েছিল। এ বিদ্রোহে ৫০ লক্ষ কৃষক পরিবার যোগ দিয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেন। এ বিদ্রোহ একক নেতৃত্ব দান করেছিল চৌগাছা পিতাম্বর বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস। তারা গ্রামে গ্রামে রাত্রির আধারে বের হত কৃষক কুলের বিদ্রোহ করার জন্য। যাদের ঘরে খাবার থাকতো না তাদের খাবার দিত, যাদের বস্ত্র থাকতো না তাদের বস্ত্র দিন, যাদের অস্ত্রের প্রয়োজন তাদের অস্ত্র দিত। আর বিদ্রোহের দাবানলদাহ প্রজ্জলিত করতো কুঠিতে কঠিতে। আর এ বিদ্রোহ করতে গিয়ে শত শত কৃষক শহীদ হন। আসলে নীল বিদ্রোহের বিদ্রোহী বারুদ ছিল অর্থনৈতিকভাবে মৃক্তির জন্য। রাজনৈতিকভাবে মুক্তির জন্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতির মুক্তির জন্য আর বেঁচে থাকার জন্য এ বিদ্রোহ ছিল অবশ্যম্ভাবী।

ক্ষুধিত হাড় কঙ্কাল দেহ অভাব অনাটনের বিকালঙ্ক মসিত্মস্ক ইংরেজদের তেজে স্বপ্নরং ম্লান করে। সাধারণ কৃষকদের প্রতিবাদ দেখে ইংরেজ তেজ সেদিন লেজ গুটিয়ে নিয়েছিল পলাতক শেয়ালের মত। ওরা বুঝতে পেরেছিল এ দেশ ছাড়তে হবে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিপুল পরিমান অস্ত্র- সস্ত্র বানানো কাটা রাইফেল, বিপুল পরিমান বারুদ আর সাধারণের হাতে বাঁশের লাঠি সোটা নিয়ে চৌগাছার সৈনিকদ্বয় ঝিনাইদহ অঞ্চলের বিজলকিুঠি চুর্ণ- বিচুর্ণ করে দেয়। বিজলী কুঠি এর অধীনে ৪৮ টি গ্রাম ছিল। সে দিন এ ৪৮ টি গ্রাম আননন্দের ঝর্ণাধারায় সিক্ত হয়েছিল। মিষ্টি বতরণ আর ইংরেজদের গালিগালাজ আর মসজিদ মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করেছিল।

প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয় নদীয়ার একাংশ মেহেরপুর এবং ঝিনাইদহের কয়েকটি এলাকায়। এগুলো ছিল পরষ্পরে সাথে সংযুক্ত। কৃষকের সমত্মান নিম্ন সম্প্রদায়ের বিশ্বনাথ বিশ্বাস এই বিদ্রোহের একক নেতৃত্ব দান করেন।

১৮০১ সালে তিনি প্রথম নীল কুঠি আক্রমন ও ধ্বংশ করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে একে একে অসংখ্য নীল কুঠি আক্রামত্ম হয়। নীলকররা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বন্ধ হতে থাকে ক্রমান্বয়ে নীল চাষের ‘‘নীল ছোবল’’।

অবশেষে ১৮০৮ সালের শেষ দিকে ইংরেজ সেনাদল সভাপতি ব্লাক ওয়ারের নেতৃত্বে বিশ্বনাথকে নদীয়ার কুনিয়ার জঙ্গলে ঘেরাও করে। সঙ্গীদের বাঁচাতে বিশ্বনাথ আত্মসমর্পন করেন। কিন্তু তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তিনি নীল কুঠি আক্রমন ও ধ্বংশ করা ছাড়াও নীলকরদের সম্পদ লুট করে দারিদ্র্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। এজন্য ইংরেজরা তাকে ‘‘বিশে ডাকাত’’ বলে আখ্যা দেন। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন এই বিদ্রোহের প্রথম বিদ্রোহী ও প্রথম শহীদ।

ঐতিহাসিক ডব্লিউ সি স্মিথ বলেন ‘‘অর্থনৈতিক দিক থেকে ওয়াহাবী বিদ্রোহ ছিল পূর্ণমাত্রার শ্রেণী সংগ্রাম। প্রাথমিক পর্যায়ে এটা ধর্মীয় আন্দোলন থাকলেও পরবর্তীতে তা কৃষক আন্দোলনে রূপ দেয়।’’

তিতুমীরের এলাকা ছিল ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানা। ১৮৩০ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহ শুরু হলেও তা ক্রমান্বয়ে যশোর ও নদীয়াতেও তা ছড়িয়ে পড়ে। তিতুর বাহিনী সঙ্গে অসংখ্য যুদ্ধে নীলকর ও জমিদাররা পরাজিত হয়। একবছর বিদ্রোহ চলার পর ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর তিতুমীর পরাজিত ও শহীদ হন।

এপর ১৮৩৮ সালে ফরিদপুরে শুরু হওয়া দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরাজী বিদ্রোহেও শেষ পর্যমত্ম কৃষক বিদ্রোহে পরিণত হয়। এই বিদ্রোহ যশোর ও নদীয়ার একাংশকেও প্রভাবিত করে।

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ পর্যমত্ম যশোর নদীয়ার নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন যশোর ওবর্তমান খুলনা বাগেরহাটের অত্যাচারী নীলকর রেনী এবং মোরেলের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১৮৫০ এবং ষাটের দশকের প্রথম পর্যমত্ম কৃষকদের বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। রেনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাসে বিশ্বনাথ বিশ্বাস এবং মোলের বিরুদ্ধে রহিমউল্লা নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধে রহিমউল্লা শহীদ হন।

বিদ্রোহের চুড়ামত্ম রূপ লাভ করে ১৮৫৯-৬০  সালে। যা ছিল প্রকৃত পক্ষে কৃষক বিদ্রোহ। সারা যশোর, নদীয়া একটি। কাটগড়া কনর্সানে পদে চাকুরী করতেন চৌগাছা ভেন্নাবেড়ে গ্রামের চাড়াল পরিবারের দিগম্বর বিশ্বাস নামে এক যুবক। অন্যদিকে কলিকাতা থেকে এসময় প্রকাশিত হতো হরিশচন্দ্র দাস সম্পদিন শিশির কমার ঘোষ। বর্তমান ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামে এক সামমত্ম পরিবারের সমত্মান তিনি। শিশির নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়মিত পত্রিকায় তুলে ধরতেন। দিগম্বর বিশ্বাসের সহযোগিতায় যখন একটা শক্তি প্রবল অগ্নূৎপাতের মত বিষ বাষ্পশিখার বেগে ছড়িয়ে পড়ে তখন শিশির তার সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করেন। বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস শিশিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফলে বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাসের বিশ্বাসে আর প্রগাঢ় রূপ ধারণ করে।

সাধারণ মানুষদের ক্রমান্বয়ে একত্রিত করতে থাকে। যার যা তাই হাতে নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর জন্য সবাইকে উদ্ধুদ্ধ করেন। এসব কুঠিগুলোর ধ্বংশাবশেষ আজও জেলাগুলোতে দেখতে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক সতীশ মিত্রর মতে ‘‘সে সময় ৬০ লাখ কৃষক এই বিদ্রোহে যোগ দেয়’’।

বর্তমান চৌগাছা উপজেলার অমত্মর্গত পুড়াপাড়া বাজারের কাঠগড়া বাউড়ের পার্শ্বে ছিল ‘‘কাটগড়া কনসার্ন’’। এই কনসার্ন এর অধীনে ৭৩ হাজার ৪৩৯ জন কর্মচারী ও কৃষক ছিল। এটা ছিল বাংলাদেশের প্রধান কনসার্ন গুলোর অন্যতম।

১৮৫৮ সালে বিচ্ছিন্নভাবে নীল বিদ্রোহী দেখা দেয়। যশোর নদীয়ার কোন কোন এলাকার কৃষকরা ঘোষনা দেন তারা আর নীল চাষ করবেনা।

দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস বরিশাল থেকে লাঠিয়াল আনে বিদ্রোহের বারুদ তীব্র থেকে তীব্রতর করার জন্য।

কৃষকদের উত্তেজিত করার কারণে দিগম্বর বিশ্বাসকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরে দেবার জন্য ইংরেজরা ঘোষনা দেন অনেক টাকার পুরষ্কার। ১৮৫৯ সালে এ অঞ্চলের কৃষকরা নীলচাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। এসময় চৌগাছার বীর বিক্রম বীর নীল বিদ্রোহের সূর্য সৈনিক দিগম্বর বিশ্বাস এর নেতৃত্বে বনগাঁ থানা লুট করে ৬ টি বন্দুক করায়ত্ব করে এবং কৃষকদের নিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে।

এই বিদ্রোহ দমনার্থে তৎকালীন চৌগাছা অঞ্চলের কাঠগড়া (নীলকুঠি) কনসার্নের তেজী ইংরেজ নীলকর ম্যাকেঞ্জী ঝিকরগাছা কনসার্নের লার্মার ও ফরলং বড় লাটের নিকট হতে ৫০০ শসন্ত্র সৈন্য যশোরে এনে রাখেন।

এসময় বারাসাতের ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন এ্যাসলি ইডেন। তিনি ছিলেন কৃষকদের প্রতি দারুন সহানুভূতিশীল। ১৮৫৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী তিনি ঘোষনা দেন নীল চাষের জন্য নীলকরদের সাথে চুক্তিকরা বা না করা সম্পূর্ণ কৃষকদের ইচ্ছাধীন। এর পরপরই নদীয়ার ম্যাজিষ্ট্রেট ডব্লিই জি হারসেলও একই ঘোষনাপত্র দেন কৃষকদের পক্ষে। কৃষকরা এ খবর দ্রুত পৌছে দেয় গ্রাম থেকে গ্রামামত্মরে, অঞ্চল থেকে অঞ্চলে। একটি বৃষ্টির উত্তাল তরঙ্গে ভাসমান আলোর ছটার মতো।

এই দুই ম্যাজিষ্ট্রেটদ্বয়ের ঘোষনাপত্র চৌপাশে বিসত্মীর্ন এলাকায় ছড়িয়ে যাবার পর বিদ্রোহী কৃষক কূল চৌগাছা সূর্য সৈনিক দিগম্বর বিশ্বাসের সঙ্গে একাত্মা ঘোষনা করেন ও নীল চাষ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বিক্ষিপ্ত ক্ষুধিত বাঘ্রের ন্যায় হয়ে ওঠে ইংরেজ তেজীরা। ম্যাকেঞ্জি চৌগাছার তাহেরপুর চিনি কুঠির পার্শ্বে একটা অস্ত্রাগার তৈরী করে। ভগবানপুর ইলেশমারীর ধারে কপোতাক্ষ পাড়ের নীল কুঠিতে জনবল ও অস্ত্রসস্ত্র বৃদ্ধি করে কৃষকদের এ বিদ্রোহ দমনের জন্য। চৌগাছা অমত্মর্গত কাঠগড়া কনসার্নের অধীনে ৫০ টির মত নীল কুঠি ছিল, তার একটি ভগবানপুর ইলেশমারীর নীল কুঠি, দুপাশে নারায়নপুর, বাদেখানপুর, ১৮৬০ খৃষ্টাব্দে লর্ড ম্যাকেঞ্জির হুকুমে ভগবানপর ইলেশমারীর কুঠিতে এনে রাখা দুর্দামত্ম লাঠিয়ালরা অস্ত্র সস্ত্র রাখা দস্যুরা নীল বিদ্রোহী চাষীদের ধরে আনার জন্য গ্রামে গ্রামে বের হয়।

তারপর কয়েকজনকে ধরে আনার পর নারায়নপুরের কৃষকরা, বাদেখানপুরের কৃষকরা, আশেপাশে বড়খানপর, জিতারপুর, মদনপুর, তাহেরপর, দেভীপুর, হাকিমপুরের বিদ্রোহী বীর কৃষক- কৃষাণী লাঠি শোটা নিয়ে, মহিলারা ঝাটাবাড়ুন নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। ইংরেজদের বিপক্ষে এইসব তীব্র থেকে তীব্রতর বিদ্রোহী দেখে লর্ড ম্যাকেঞ্জি তাহেরপুর চিনি কুঠি থেকে দুরামত্ম- দুর্বার স্পিড বোর্ডে চৌগাছা হয়ে ঝিকরগাছা দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এভাবে চলতে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লাই দিনে দিনে এলড়ায়ের ভাব তীব্র থেকে তীব্রতর হলে ইংরেজ লাঠিয়ালরা রাতারাতি চৌগাছা অঞ্চল ছেড়ে পাতালে শুরু করে। আর চৌগাছার হাজার বছরের শ্রেষ্ট সমত্মান দিগম্বর বিশ্বাস কৃষককুল সংগঠিত করে উলুধ্বনি শঙ্কধ্বনি দিয়ে হাস্যময় ধ্বনি তুলে ইলেশমারি, ভগমানপুর কুঠি রাত্রির আধারে গুড়িয়ে দেয়। ঢাক- ঢোল আর ইম্মাদে মাতাল কৃষককূল আনন্দের লাঠি খেলায় মেতে ওঠে। এ অঞ্চল থেকে ইংরেজ নীলকরদের কাল নীল ছোবলের বিষ চিরদিনের মত বন্ধ হয়ে যায়।

উত্তেজিত ইংরেজ বিদ্রোহ দমনার্থে ৫০০ ষৈন্য নিয়ে আসে চৌগাচার কতিপয় কুটি গুলো রক্ষা ও পুণরুদ্ধারের প্রত্যাশে। ম্যাকেংঞ্জি, লার্মার, ফরলংরা সৈনিক সমামত্ম নিয়ে কৃষকদের বিদ্রোহ চিরদিনের মতো ধুলিষ্যাৎ করে দেবার প্রত্যয়ে বিষবান। তারই বিপরীত বীরতর্প চৌগাছার সূর্য সমত্মান দিগম্বর বিশ্বাস চৌগাছার তাহেরপুরের কপোতাক্ষ পাড়ে পাশে বর্তমান হাকিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদুর রহমানের বাড়ীর দলির্জে বহিরাগত বহুগ্রামের মানুষেরা ও হাকিমপুর, তাহেরপর, আরাজীসুলতানপুর, দেবীপুর, মাঠচাকলা, স্বরূপপুরের মহাবীরেরা যোগদান করেছিল। প্রচন্ড বিদ্রোহের কথা ঘোষনা করেন, কৃষকরা শপথ করেন। শপথ করেন এ এলাকার বীরাঙ্গনাপারীরা।

এরপর দিগম্বর বিশ্বাস নারায়নপুর মাঠে কৃষকদের সাথে মিলিত হন অমত্মত: ১০ গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়েছিল। আর শপথ বাক্য পাঠ করেছিল জীবন গেলেও সৈন্যদের হাতে পরাজয় বরণ করবেন না।

এভাবে বিভিন্ন স্থানে দিগম্বর বিশ্বাস মিটিং সিটিং করে জনতার আর প্রকম্পিত ও একত্রিত করতে সক্ষম হয়।

একদিকে ইংরেজ তেজ অস্ত্র সস্ত্র সৈনিকরা অন্যদিকে বনগাঁ থানা থেকে লুট করা ৬ টি অস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে দিগম্বর বিশ্বাসের নেতৃত্বে ঝিকগাছার রেনেয়ালী নামক স্থানে সমাবেত হতে থাকে বিদ্রোহী কৃষকেরা।

অবশেষে ১৮৬১ সালের ২৫ জানুয়ারী শুরু হয় ইংরেজ সৈন্যদের সঙ্গে চৌগাছা- ঝিকরগাছার বিদ্রোহ কৃষক কূলের মুখোমুখি যুদ্ধ।

লর্ড ম্যাকেঞ্জির হুকুমে সৈন্যরা গুলি চালায় সাধারণ নিরন্ন ভৃক্ষা বঞ্চিত বিদ্রোহী কৃষককূলের দিকে। উত্তেজিত কৃষককূল লাঠি সোটা নিয়ে ম্যাকেঝি্চর সৈন্যদের দিকে এগোতে থাকে চৌগাছার সেনাপতি দিগম্বর বিশ্বাসের নেতৃত্বে।

ঐতিহাসিকদের আলোচনা থেকে দেখা যায়, ইংরেজ সশস্ত্র বাহিনীর আক্রমনে হাজার হাজার কৃষাণ ঐদিন জীবন দিয়েছিলেন। আহত হয়েছিল হাজার হাজার। রক্তের বিনিময়ে বন্যায় ভেসে গিয়েছিল। ঝিকগাছার এ অঞ্চল হাহাকার চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে এসেছিল।

কিন্তু অবশেষে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়না বাঙালী সৈনিক দিগম্বর বিশ্বাসের অগ্নিসূফলিঙ্গ ভাষন কখনো সত্মম্ভ করতে পারেনি। সাধারণ কৃষককূরের কৃষাণীদের। অবশেষে পালিয়ে লেজ গুটিয়ে পরাজিত হয়ে দৌড় দেয় ইংরেজরা। আর কৃষককূল লাঠি দিয়ে মেরে ফেলে অনেককে আর কেউ কেউ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিদ্রোহ হয়, বিজয়ের মিছিল হয়- শহীদ হয় চৌগাছার ঝিকরগাছাসহ সাধারণ অনেক এলাকার। অবশেষে রক্তের গঙ্গা বেয়ে আসে স্বাধীনতা সাধারণ কৃষককূলের।

এ বিদ্রোহ সফল হওয়ার সম্ভাবপর ছিল না, যদিনা দিগম্বর বিশ্বাসের মতো সুতীব্র নেতৃত্বদানকারী না থাকতো। না থাকতো বারাসাতের ম্যাজিষ্ট্রেট ডব্লিই জি হারসেল, চুয়াডাঙ্গার জমিদার, শ্রীপুরের জমিদার, ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব আব্দুল লতিব তিতুমীরের জীবন দান। চৌগাছার জমিদার হেমেন্দ্রপ্রসাদ বলেন ‘‘বাংলার কৃষকরা ক্রীতদানস নয় যে তারা নীল চাষ করবে’’। হাজার হাজার কৃষকদের জীবনদান, রক্তের স্রোত ধারায় নেমে আসে এ বিশাল বিজয়।

পরিশেষে বলা যায়, নীল বিদ্রোহে সাধারণ কৃষককূল একত্রীকরণে, বলবৃদ্ধিকরণে যে প্রবল দিক দর্শন দর্শিয়েছিল তা তার শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার চৌগাছার দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস। অথচ তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে চৌগাছার কোন সড়ক কিংবা স্মৃতিসত্মম্ভ নাই। যেই বীর বিপ্লবী সৈনিকদের পাশ কাটিয়ে আমরা নিজেদেরকে কখনও দায়িত্ববোধ, দেশাত্ববোধ এড়িয়ে যেতে পারি। আসুন আমরা সবাই চৌগাছার মানুষ একত্রিত হয়ে নতুন বিজয়ের পথে এগিয়ে যাই। চৌগাছার দুই কৃতিসমত্মান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠবীরদ্বয়ের জন্য নির্মাণ করি দুটি ভাষ্কর আর অন্যতম প্রথম সড়কে তাদের নামকরণ করি। এছাড়া চৌগাছার মহিলা কলেজে একটি ভবনের নাম, চৌগাছা ডিগ্রী কলেজের ভবনের নাম চৌগাছা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম ভবনের নাম দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নামকরণ করতে পারি। এছাড়া চৌগাছা কূলঘেষা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দিগম্বর ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নামে নামকরণ করার প্রসত্মাবটি রাখা যায়। এর জন্য প্রয়োজন চৌগাছার মানুষের মিছির, মিটিং, মানব বন্ধন অব্যাহত রাখতে দোষ কোথায়? তবেই তো তাদের আত্মার শামিত্মর পথ প্রসস্থ করা সম্ভব। আর আমাদের আত্মিদায় কিছুটা হলেও মুক্তি করতে পারি।